অন্ধকারের রাজা উপন্যাস


 লেখক: জাহিদুল ইসলাম জয় 

নায়ক:জাহিদুল ভাই 

নায়িকা:সোহানা

সিজন ১


উপন্যাস :অন্দকারের রাজা


✦ অধ্যায় ১: অন্ধকারের রাজা

(১)

ঢাকার অন্ধকার গলিতে রাত বারোটার পরও আলো জ্বলছে।

চায়ের দোকান বন্ধ, কিন্তু এক বিল্ডিংয়ের ছাদে বসে আছে জাহিদুল—চোখে বরফের মতো ঠান্ডা দৃষ্টি।

সিগারেটের ধোঁয়ার সঙ্গে মিলিয়ে যাচ্ছে তার ভেতরের আগুন।


সে এখন ঢাকার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মাফিয়া সিন্ডিকেটের প্রধান।

কিন্তু কেউ জানে না, এই মানুষটা এক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল—

যার হাসিতে এক সময় প্রাণ পেত অনেক মুখ,

যার একটিমাত্র স্বপ্ন ছিল “একটা শান্ত জীবন”।


আজ সেই জাহিদুলের হাত রক্তে ভরা।

তার সামনে পড়ে আছে একটা মোবাইল—

তাতে একটা ছবি:

একটা মেয়ে হাসছে, চোখে আলো—সোহানা।


সে একসময় জাহিদুলের জীবনের একমাত্র আলো ছিল।

কিন্তু এখন সেই আলো কোথায়?

জাহিদুল জানে না সে বেঁচে আছে কিনা।


তবুও, প্রতিরাতে এই ছাদের উপর বসে, সে শুধু তাকায় ঐ ছবিটার দিকে।

আর নিচের দিকে তাকালেই—

দেখা যায় শহরের রাস্তায় ছুটছে তার লোকেরা, তার শত্রুরা, আর তার নিয়তি।


একটা ফোন আসে।

"ভাই, কামরুলকে পাওয়া গেছে। সে পুলিশে কথা বলেছে।"

জাহিদুল চোখ বন্ধ করে বলে,

“চুপচাপ শেষ করো ওকে। কোনো শব্দ যেন না হয়।”


সেই মুহূর্তে দূর থেকে ভেসে আসে এক মেয়ের কণ্ঠ—

“তুমি এখনও ওরকমই আছো... তাই না, জাহিদুল?”


সে ঘুরে দাঁড়ায়—

আর সময় থেমে যায়।

সামনে দাঁড়িয়ে আছে সোহানা, যাকে সে মৃত ভেবেছি।   

(২)

ছাদের ন্ডান্ডা বাতাস এক মুহূর্তে যেন    ৷     মন ভারি হয়ে গেল।

জাহিদুলের হাতে ধরা সিগারেটটা কাঁপছে —

যেমন কাঁপে কোনো সৈনিক যখন যুদ্ধ শেষে হঠাৎ প্রিয়জনকে দেখে।


সোহানা।

সে দাঁড়িয়ে আছে কালো শাড়িতে, চোখে এক অচেনা দৃঢ়তা।

যেন সেই মেয়ে আর আগের মতো কোমল নেই।


“তুমি…” জাহিদুলের গলা শুকিয়ে যায়,

“তুমি তো… মরে গিয়েছিলে।”


সোহানা হালকা হাসল — ঠোঁটে বিষ মেশানো হাসি।

“মরা আর হারিয়ে যাওয়া — দুইটা আলাদা জিনিস, জাহিদুল।”

তার চোখে একটা ঝলক — পুরনো ভালোবাসা আর নতুন ঘৃণার মিশ্রণ।


জাহিদুল কিছু বলতে যাচ্ছিল, তখনই হঠাৎ ছাদের নিচ থেকে গুলির শব্দ —

“ধাঁশ!” “ধাঁশ!”

দু’জনেই নিচে তাকায়।

তার লোকেরা কারও সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত।


“তারা চলে এসেছে…” সোহানা ফিসফিস করে বলে।

“কে?” জাহিদুল গর্জে ওঠে।

“তোমার পুরনো শত্রুরা নয়, এবার আমি এনেছি ওদের।”


জাহিদুল চোখ কুঁচকে তাকায়,

“তুমি আমার সঙ্গে… বিশ্বাসঘাতকতা করছো?”


সোহানার গলা ভারি,

“তুমি যেদিন আমার ভাইকে মেরেছিলে, সেদিন থেকেই আমি তোমার শত্রু।”


সবকিছু মুহূর্তে স্তব্ধ।

শুধু দূরে পুলিশের সাইরেন বাজছে।


জাহিদুল ধীরে ধীরে পকেট থেকে পিস্তল বের করল।

“তাহলে আজ থেকে… তুমি আমার ভালোবাসা না, আমার যুদ্ধ।”


সোহানা চোখে পানি নিয়ে বলল,

“ভালোবাসা তো অনেক আগেই মারা গেছে, জাহিদুল।

এখন শুধু প্রতিশোধ বাকি।”


বজ্রপাতের মতো আলো ঝলসে উঠল —

আর পরের মুহূর্তেই গুলির আওয়াজে রাতটা চিরে গেল।

(৩)

রক্ত, প্রতিশোধ আর গুলির শব্দের ভেতরে ভালোবাসার একটা গভীর, হৃদয় কাঁপানো মুহূর্ত।

এটা হবে এমন একটা অধ্যায়, যেটা পড়ে পাঠকের মনে হবে—

অন্ধকারের মাঝেও প্রেম সত্যি ছিল, শুধু সময়টা ভুল ছিল।

রাতের পর্দা নেমে এসেছে ঢাকায়।

বৃষ্টি থেমে গেছে, কিন্তু ছাদের কোণে জমে থাকা পানি এখনো টুপটাপ ঝরছে।

জাহিদুলের বুকের ভিতরটা যেন ঠিক সেইরকম—

বাইরে শান্ত, ভিতরে ঝড়।


সোহানার গুলির শব্দের পর থেকে সময় থেমে গেছে।

সে গুলিটা তাকে আঘাত করেনি, কিন্তু ভেতরটা কেটে দিয়েছে।


জাহিদুল ধীরে ধীরে চোখ মেলে, দেখে এক পুরনো ঘরে শুয়ে আছে।

হালকা আলো, জানালার পাশে বসে কেউ কাঁদছে—

সোহানা।


তার চোখে লালভাব, ঠোঁট কাঁপছে।

যেন শত বছর পর কারও হৃদয় আবার স্পর্শ পেল।


“তুমি… আমাকে কেন বাঁচালে?”

জাহিদুলের গলা ভারি, কিন্তু কৌতূহলে ভরা।


সোহানা তাকায় না, শুধু বলে,

“ভালোবাসা সব সময় মারতে পারে না… কখনো কখনো তা শাস্তি দেয় বাঁচিয়ে রেখে।”


জাহিদুল হালকা হাসে,

“তুমি আগের মতোই কথা বলো, সোহানা। আগের মতোই নিষ্ঠুর।”


সোহানা এবার চোখ তুলে তাকায়,

“আর তুমি আগের মতোই পাষাণ… কিন্তু আমি জানি, এই পাথরের নিচে একসময় একটা হৃদয় ছিল।”


কিছুক্ষণ কেউ কিছু বলে না।

বাইরে বজ্রপাত হয়, ঘরের ভেতর মোমবাতির আলো কাঁপে।

জাহিদুল হঠাৎ বলে ওঠে,

“তুমি জানো, আমি তোমার ভাইকে মারিনি।”


সোহানা চমকে তাকায়,

“তুমি কী বলছো?”


জাহিদুল উঠে বসে—

“ওর মৃত্যুটা ছিল আমার শত্রুদের ফাঁদ। আমি পৌঁছানোর আগেই ও মারা যায়। আমি শপথ করে বলছি, আমি ওর গায়ে হাত দিইনি।”


সোহানা কিছু বলতে পারে না।

তার চোখ ভিজে ওঠে।

সে ধীরে ধীরে জাহিদুলের দিকে এগিয়ে আসে।

তাদের মাঝের দূরত্ব যেন এক অনন্তকালের ব্যবধান।


জাহিদুলের কণ্ঠ কাঁপে—

“আমি প্রতিদিন ওর কবরের পাশে যেতাম… আর তোমার জন্যও যেতাম। ভাবতাম, যদি একবার তোমার মুখ দেখতে পেতাম।”


সোহানা চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে।

তার আঙুল কাঁপছে, কিন্তু সে জাহিদুলের গালে হাত রাখে।

একটা মুহূর্তে যেন সমস্ত যুদ্ধ থেমে যায়।


মোমবাতির আলোয় তাদের চোখে প্রতিফলিত হয় একই ব্যথা, একই আকাঙ্ক্ষা।

জাহিদুল তার হাত ধরে ধীরে বলে—

“তুমি চাও আমি আবার মানুষ হই?”


সোহানা ফিসফিস করে বলে,

“তুমি যদি চাও, আমি তোমায় শেখাবো কিভাবে আবার বাঁচতে হয়।”


বৃষ্টি আবার শুরু হয়—

বাইরে শহরটা অন্ধকারে ডুবে যায়,

আর ঘরের ভেতর দুটো হারানো আত্মা আবার একে অপরের দিকে এগিয়ে আসে।


তাদের ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে উচ্চারিত হয় এক অজানা প্রতিশ্রুতি,

যেখানে ভালোবাসা আর অপরাধ এক হয়ে যায়।


“এই শহর যদি রক্ত চায়,” জাহিদুল বলে,

“আমি রক্ত দেবো… কিন্তু তোমাকে হারাবো না।”


সোহানা চুপচাপ তার বুকে মাথা রাখে।

বৃষ্টির শব্দে হারিয়ে যায় তাদের নিঃশ্বাস।



দারুণ — ঠিক বলেছো। তুমি চাইছো গল্পটা আগাতে খুব দ্রুত শেষ না করে— ধীরে, অনুভূতিতে ভরা, বিশদ করে টানা যেতে হবে। আমি Chapter 4—“ভালোবাসার দামে রক্ত” কে অনেক বড়, ধীরে গড়া, গভীর রোমান্টিক ও অ্যাকশন মিশ্রিত করে লিখছি — যাতে প্রেম, দ্বন্দ্ব, অতীতের স্মৃতি আর সিদ্ধান্তের ক্ষত সবকিছু ভরে ওঠে। নিচে সম্পূর্ণ বিস্তৃত ও গোছানো অধ্যায়টি দিচ্ছি (লম্বা — তবে ধরে রেখে পড়ার আনন্দ থাকবে)।


✦(৪)


ভোরের প্রথম আলো ঢাকার ক্যানভাসে বাধা পড়ছে—বৃহৎ ইটের দেয়ালগুলোতে হালকা সোনালি বালুকা ছড়িয়ে যাচ্ছে। কিন্তু জাহিদুলের এককোণে কক্ষটা সেই আলোকে গ্রহণ করতে রাজি নয়। তার চোখের নিচে গভীর ছায়া, এমন ক্লান্তি—যা ঘুমে ভুলে যায় না।

ঘড়ির কাঁটা কয়েক বার হুক করে, তারপর আবার থেমে যায়—মানুষের বুকে যে ধ্বনি বাজে তার মতো।


সে মুঠোফোন থেকে পুরনো ছবিগুলো বার করে: বিশ্ববিদ্যালয়ের দিন, সোহানার মাথায় ফুল, তারা দুজনে অদ্ভুত এক নির্লিপ্ত হাসি। এক মুহূর্তে মনে পড়ে—কোনো এক শান্ত বিকেলে সোহানা হেসে বলেছিল, “তুমি যদি মানুষ হতে চাও, আগে নিজেকে ক্ষমা কর।”


জাহিদুল ধীরে ধীরে মনে করে—ক্ষমা? তার মধ্যকার সব কিছু কি ক্ষমার অযোগ্য?


২. দুপুর—জটিল পরিকল্পনা


সোহানা পুরো দুপুরটা নিজের মধ্যে লড়াই করে কাটায়। পুলিশের এক নম্বর যোগাযোগ থেকে মেসেজ তার হাতে নেই—“রাতে অভিযান।” তার দু’চোখের সামনে ভাসে সেই দিনটি—ভাগ্নে গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে, আর তখনকার জাহিদুল তাকে পাশে না রেখে যায়। এইগুলো সোহানার মনে বারবার প্রশ্ন তোলে: কি সত্য, কি মিথ্যা? কী ছিল ওর ভাইয়ের শেষ কথা? কে সব দেখে হাসছিল?


সে জানে—এটা একটা সুযোগ। পুলিশ যদি সত্যিই জাহিদুলকে ধরে ফেলতে পারে, শহরটা বদলে যেতে পারে। কিন্তু সেই একই জায়গায় তার হৃদয় বলে—“তুমি কি তাকে মরতে দেবে?”


রাত নেমে আসার আগে সোহানা কয়েকটা জায়গায় ফোন করে, শেষ মুহূর্তে তার পুরনো এক পরিচিতির কথা মনে পড়ে—রিফাত। রিফাতের হাত আছে পুলিশের ভিতরে, এবং তার আছে মাফিয়ার অন্ধকার সেক্রেট। সোহানা রিফাতকে বলে, “তুমি নিশ্চিত করতে পারো কে আসছে?”

রিফাত দম ফেলেই বলে—“তুমি যদি খুঁজে পেতে চাও সত্যটা, তাহলে নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলবে।”

সোহানা চুপ করে—তার হৃদয় বলেছে, ঝুঁকি নেবে।


৩. রাত ১১টা — অভিযান শুরু


রাত ঘনিয়ে আসে। ছাদের কোণে বাতি ঝলসে, নিচে রাস্তা উন্মুক্ত—পুলিশ ভ্যান, সাদা টর্চ, ও তাদের মুখে কঠোর অঙ্গভঙ্গি। শহরের ভেতর একটা বিশাল শ্বাস কেঁদে ওঠে—সবকিছুই সামনে।


জাহিদুল জানে—আক্রমণ আসবে। সে প্রস্তুতি নিয়েছে নীরবে। কিন্তু প্রথম গুলির শব্দ আকাশে বাজতেই সবকিছু বদলে যায়—আক্রমণকারীরা বেশি পরিকল্পিত, বলে মনে হয় যে কেউ তাকে ফাঁস করেছে। গুলি লাফে, জানালার কাচ শশা ভেঙে ছিটকে পড়ে।


সোহানা স্টিল হাতে—সে আর কোনো ‘শুধু’ সাধারণ মেয়ে নন। তার হাত কাঁপছে, কিন্তু কাঁপাটা রোজকার কাঁপা নয়—এটা বেছে নেওয়া কাঁপা। সে জাহিদুলের কাছে ছুটে আসার বদলে আবরার করে: “আমি এখানে আছি।”


তখনই ভিতর থেকে কাঁপন ভাঙে—জাহিদুল ঘোষণা করে, “চলে এসো, এখানে নয়—নিচের গোপন তালাবদ্ধ ঘরে।”

তারা দু’জনে নিচে নামার সময় গুলির শব্দ তীব্র হয়। নিচেও লড়াই; দেয়াল কাঁপে; ধোঁয়া জমে।


৪. লড়াইয়ের মাঝখানে—এক মিনিটের প্রশান্তি


একটা কাঁচা মেঝেতে দু’জন একে অপরের চোখের দিকে তাকায়—কান্না ও রক্তমাখা মুখে মিশে আছে, ধোঁয়ার গন্ধে তাদের নিঃশ্বাস কৃশ। সোহানা হাত বাড়িয়ে জাহিদুলের গায়ের জাঁকজমক ছোঁয়—এবার সে শুধু বলল, “জাহিদুল, আমি এসেছি—তুমি কি আমাকে বিশ্বাস করবে?”

জাহিদুল প্রথমবারের মতো ভাঙা কণ্ঠে বলে, “অন্তত আজ রাতে… না হলে আমি তোমাকে হারাব।”

সোহানা কাঁধে মাথা রেখে বলে, “তোমাকে হারাবো না—আমি তা প্রতিজ্ঞা করেছি।”


ওরা নিজেদের মধ্যে এমন মধুরতা খুঁজে পায়, যেন সব গোলাগুলি একটা দূরের অভিশাপ। কিন্তু বাস্তবতা ফিরে আসে—দরজা ভেঙে পুলিশ—সেই এক নারীবাহিনী, তবে এখানে কেউ বিশ্বাসঘাতকতার ছাপ আছে।


৫. ক্লাইম্যাক্স—চূড়ান্ত মুহূর্ত


একটু পরে ঘটে এমন—একজন পুলিশ কর্মকর্তা সবার সামনে উচ্চস্বরে ঘোষণা করে, “জাহিদুল আহসান, তুমি গ্রেপ্তার!” কিন্তু উত্তরে আসে—ভিতরের এক করুণ সত্য। রিফাত—যে পুলিশ ভেতর থেকেই তথ্য দিয়েছে—এবারই পুলিশের সঙ্গী নয়; সে মাফিয়ার বিরুদ্ধে একটি বড় নথি ফুটিয়েছিল যাকে ধরে রাখতে চেয়েছিল বাঁচানো যাবে না।


গোলাগুলি থেমে না। হঠাৎ—একটা আছড়ে পড়া গুলি যায় জাহিদুলের কাঁধে। সে ঝটপট কুক্ষিতে হাত দেয়—রক্ত ছিটকে পড়ে। সোহানার চোখে আলো নিভে যায়।

সে ঘুষি মেরে হামাগুতি করে আক্রমণকারীদের দিকে—তার চতুরতা, তার চটজলদি পরিকল্পনা এখনই জীবন রক্ষার একমাত্র উপায়। সে কয়েকজন পুলিশের দিকে প্রবেশ করে; কোনো একটি তার হাতে কিছু দিয়ে—একটা ক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটায় যেটা মুহূর্তে কবল করে সবার মন।


যখন ধোঁয়া কমে, দেখা যায়—জাহিদুল মেঝেতে পড়ে আছে, বুক থেকে রক্ত ঝরছে, তিনি ধীরে ধীরে অচেতন মেজাজে। সোহানা তার পাশে পড়ে—তার হাত রক্তে লাল, তার গলা শুকিয়ে আসে। সে চিৎকার করে—“না! তুমি মরো না!”


প্রথমবার সেই শব্দটি আসে—নীরব ভয় আর ভালবাসার সম্মিলন।


৬. ঘোরবাসা—রক্তের গন্ধ, স্মৃতির ছবি


সোহানা তার সমস্ত সাহস জোগাড় করে জাহিদুলকে টেনে আনে এক লুকানো টানেল দিয়ে—একটি পুরনো মেডিকেল কক্ষে গিয়ে তাকে বসায়। সে জানে, হাসপাতাল এখনই ঝুঁকিপূর্ণ; পুলিশের চোখ আছে; তাই সে নিজের প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যান্ডেজ বানায়। হাত কাঁপছে, কিন্তু সে ভালো করে বাঁধে।


জাহিদুল অচেতন। সোহানা বসে তার পাশে, উঠে পড়ে দেখি তার চোখের কোণে এক ফোঁটা রক্তে মিশে থাকা চোখের জল জমে। সে ধীরে ধীরে স্মৃতি ভাঙে—যখন তারা প্রথম দেখা করেছিল, যখন জাহিদুল তাকে হেসে আখ্যায়িত করেছিল—“তুমি আলো”—কতটা কৌতুক ছিল। সব কিছুই এখন ফ্ল্যাশব্যাকে ভেসে আসে; সোহানার মনে পড়ে, সে কিভাবে প্রতিজ্ঞা করেছিল—যদি কখনো তার সামনে কিছু ঘটে, সে রক্ত ফেলে হলেও ছেনা তুলবে।


সে ধীরে ধীরে জাহিদুলের কপালে ঠোঁট রাখে—এটি প্রেমিকের নয়; এটি বিদায়ী কণ্ঠস্বরের প্রতিশ্রুতি। সে বলে, “তুমি যদি মরো, আমি তোমায় ছাড়বো না—আমি তোমার রক্তের হিসাব নেব।” কিন্তু তার ভেতরেই লুকানো ভয়—যদি সত্যিই সে মারা যায়, তাহলে কে এই সমগ্র কাহিনীর আধার হবে?


৭. দীর্ঘরাত্রির শেষ—নিশ্চিত না থাকা


রাত্রি কেটে ভোরের দিকে, সোহানা এক মুহূর্ত বিশ্রাম নেয়—কিন্তু মনটা একটুও শান্তি পায় না। সে জানে—এটা শেষ নয়। যদি জাহিদুল বেঁচে থাকে, শহরটা তাকে ধরবে; যদি সে মারা যায়, শহরটা শূন্য হয়ে যাবে—আর সেখানে অন্যরা ঢুকবে।


সে সিদ্ধান্ত নেয়—চলে যাবে অচেনা এক জায়গায়, সেখানে রাজ্য গড়ে তুলবে নতুন কৌশলে। আগে তাকে বাঁচাতে হবে। সে জীবনের সব কিছু ঝুঁকিতে ফেলে চলে—কারণ ভালোবাসা তাকে আর তাড়া করছে না—ভালোবাসা তাকে রক্ষা করার উপদেশ দিচ্ছে।


৮. অধ্যায়ের শেষ—আশা ও অনিশ্চয়তার রেখা


চোখ ধরা যায়—জাহিদুলের নিঃশ্বাস ধীর, কিন্তু তিনি বেঁচে আছে কি না বলতে কষ্ট। সোহানা তার কণ্ঠে জল ধরে, মাথাটা তার কাঁধে রেখে বারবার বলে—“তুমি বেঁচে থাকবে। তুমি বেঁচে থাকতে হবে।”


দূরে শহরের আলো নিভছে, কিন্তু একটি ছোট লাইট—কিছুতেই নিভে না। সোহানার হাতে একটা খাম আছে—রিফাতের দেওয়া বিল্ডিংয়ের নথি। সেখানে দেখা যাবে—এক ব্যাক্তি আছে যিনি সব কিছু চালিয়ে এসেছেন; একজনই যে পুলিশ ও মাফিয়ার মাঝখানে হাসছে।


চূড়ান্ত বাক্য—


ছাদের সেই অন্ধকারে, রক্ত আর প্রেম মিশে যায়; একে অপরকে গলে খায়—but গল্পটা শেষ হয়নি। কোন পথে যাবে এই দু’জন—এটাই এখন প্রশ্ন।



সিজন ২ খুব শীঘ্রই আসছে। সিজন ২ আরো বড় করে আরো গুছিয়ে উপস্থাপন করার চেষ্টা করব 

(যেহেতু আমার এটা প্রথম উপন্যাস সেহেতু কোন ভুল ত্রুটি করলে ক্ষমার চোখে দেখ

Comments

Popular posts from this blog

অন্ধকারের রাজা উপন্যাস সিজন ২

দুই পৃথিবী